দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। মন্দিরে বিশেষ মেহেদি বিতরণ করা হবে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের ভক্তদের কাছে সিঞ্জারা মেহেদির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির বিয়েতে কোনো ধরনের বাধা রয়েছে, তারা মন্দিরে মেহেদি দেন এবং পরে সেই মেহেদি হাতে পরেন। ভক্তদের বিশ্বাস, এভাবে মন্দিরের মেহেদি ব্যবহার করলে এক বছরের মধ্যে তারা কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পেয়ে যেতে পারেন।
মন্দিরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়েছে। মেহেদি সংগ্রহ করতে শুধু জয়পুর বা আশপাশের এলাকার মানুষই নয়, দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন শহর থেকেও ভক্তরা মন্দিরে ছুটে আসেন। তাদের অনেকেই মেহেদি পাওয়ার আশায় আগের রাতেই মন্দিরের আশপাশে এসে অবস্থান নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মন্দিরের বাইরে দীর্ঘ সারি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় দেখা যায়। মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে মন্দিরের আশপাশের এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। এ সময় মন্দির প্রাঙ্গণে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিপুল ভিড়ের মধ্যে মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্ত অচেতন হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মন্দির এলাকায় তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, ‘সালমান খান কোথায়?’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এত অবিবাহিত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।’
আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘আগে নিজেকে রেডি করো, তারপর জীবনসঙ্গীর খোঁজ করো।’ আবার কেউ মন্তব্য করেন, ‘এদিকে কাজ খুঁজে পাচ্ছি না, আর এদের মাথায় শুধু বিয়ের চিন্তা।’
গণেশ চতুর্থীকে কেন্দ্র করে সিঞ্জারা উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবকে ঘিরে মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। সারা বছরই মন্দিরটিতে ভক্ত ও পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে মানুষের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বিয়ে নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন লোকবিশ্বাসের সঙ্গেও মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই সিঞ্জারা উৎসবের মেহেদিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এবারও সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ মন্দিরে ছুটে আসেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মেহেদি শেষ হয়ে যায়।
