সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন ঘুণ্টিঘর এলাকা মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে অভিযানে যাওয়ার পর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হতো। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সহযোগিতা করতেন।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হন। তাঁর ভাষ্য, ওই এলাকায় নিয়মিত নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। এ কারণে সেদিন আগে থেকেই সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ওই দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২০-৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকে। কয়েকজন আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসে। এ সময় আত্মরক্ষাতে আমার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে নিই। নিশ্চিত হই তাদের হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র আছে কি না। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হলে আমার অস্ত্রটি পকেটে রেখে দিই।’
তিনি জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করা হয়। এ সময় পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশ ছয়জনকে আটক করে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ওই রাতেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে প্রকাশ করা হয়, যা তাঁকে ও তাঁর দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তাঁর দাবি, ঘণ্টায় ঘণ্টায় তাঁকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এ ঘটনায় দল বিব্রত হওয়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, ‘আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি। শুধু আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় আমার অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।’
