‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ নামে পরিচিত এই আইনটি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। আইনে রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আইনটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দেশটির বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় নয়াদিল্লি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে এর আগেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এর জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হয়।
নতুন মার্কিন আইনের ফলে আবারও ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত যদি আগের মতো রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় কোনো দেশের পণ্যের ওপরও সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হওয়ার পরও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
নতুন আইনটি মূলত রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকেও সেই চাপের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ভারত ও চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশের ওপর মার্কিন প্রশাসন বাস্তবে কতটা এবং কখন এই শুল্ক প্রয়োগ করবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: এনডিটিভি
