বিয়ের পর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে রাশমিকার প্রথম সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘রানাবালি’। ছবিটিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আগে থেকেই আগ্রহ রয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগের কথা নিজেই জানিয়েছেন রাশমিকা। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেত্রীর প্রতিনিধিদল সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, আটা, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছে।
রাশমিকা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪০০টি পরিবারের আগামী তিন মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। শুধু একবারের সহায়তা দিয়েই থেমে থাকতে চান না অভিনেত্রী। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন করে ৪০০টি অসচ্ছল পরিবারকে একইভাবে সহযোগিতা করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
অভিনেত্রীর আশা, তিন মাসের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহন করা হলে পরিবারগুলোর হাতে কিছু অর্থ সাশ্রয় হবে। আর সেই অর্থ তারা ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখতে পারবে কিংবা সন্তানদের লেখাপড়া, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা অথবা নিজেদের স্বাবলম্বী করে তোলার কাজে ব্যয় করতে পারবে। অর্থাৎ, তাৎক্ষণিক খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাধারণত ব্যক্তিগত দাতব্য কার্যক্রম নিয়ে খুব একটা প্রকাশ্যে কথা বলেন না রাশমিকা। নিজের মানবিক কাজগুলো এত দিন আড়ালেই রাখতে পছন্দ করতেন তিনি। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্যোগটি তুলে ধরার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এই কাজের কথা জানার পর অন্য কেউ যদি অনুপ্রাণিত হন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন, তাহলেই উদ্যোগটি সার্থক হবে।
এ প্রসঙ্গে রাশমিকা বলেন, “আপনাদের অগাধ ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেই আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আগে এসব কাজ আড়ালেই করতাম। কিন্তু এখন মনে হয়েছে, আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস দেখে যদি অন্য কেউ অনুপ্রাণিত হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবে সেটিই হবে বড় প্রাপ্তি। একটি ছোট ভালো কাজও মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।”
রাশমিকার এই উদ্যোগে উঠে এসেছে সমাজের অসচ্ছল মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা। তাঁর বিশ্বাস, একজনের ছোট্ট উদ্যোগও অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। আর সেই অনুপ্রেরণা থেকে আরও মানুষ এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য, রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা অভিনীত ‘রানাবালি’ সিনেমার কাহিনির পটভূমি তৈরি হয়েছে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের দক্ষিণ ভারতের ভয়াবহ মহাদুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের কঠোর শস্য রপ্তানি নীতি এবং চরম খরার কারণে তৎকালীন অন্ধ্র প্রদেশের রায়লসীমা অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ অনাহারে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক অধ্যায়কে উপজীব্য করেই নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
ছবিতে বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে দেখা যাবে অনাহারী মানুষের অধিকার রক্ষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক বিপ্লবীর চরিত্রে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর চরিত্র ‘জয়ম্মা’ হয়ে পর্দায় হাজির হবেন রাশমিকা মান্দানা। ঐতিহাসিক দুর্ভিক্ষ, মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং অধিকার আদায়ের লড়াইকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সিনেমাটিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক দুর্ভিক্ষের নির্মমতা ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা রাশমিকার বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলেছে বলে উঠে এসেছে তাঁর এই উদ্যোগে। পর্দার গল্প থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আগামীকাল ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘রানাবালি’ সিনেমাটির।
