Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা টান টান উত্তেজনা: মার্কিনদের বিদ্যুৎ ও খনিজ সরবরাহ বন্ধের হুমকি কানাডার!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে পাল্টা কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কানাডা। দেশটির অন্টারিও প্রদেশের সরকারপ্রধান ডগ ফোর্ড বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন হুমকিতে ক্ষুব্ধ হয়ে কানাডাকে আরও কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

সম্প্রতি কানাডায় তৈরি গাড়ি, ট্রাক, মোটর পার্টস ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন ডগ ফোর্ড।

দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডগ ফোর্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কানাডার উৎপাদনশিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করে, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সব পথই খোলা রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাম বাড়ানো কিংবা সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ফোর্ড বলেন, অন্টারিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ট্রাম্প কানাডার শিল্প ধ্বংস করতে চাইলে তাকে ‘একগাদা ব্যাটারি সঙ্গে রাখতে হবে’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

তবে কানাডার এই হুমকিকে পাত্তা দেননি ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডগ ফোর্ডের বক্তব্যকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি কানাডার নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সোজা লাইনে’ থাকার হুঁশিয়ারিও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তুলনায় অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী দেশ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন ডগ ফোর্ড। তিনি বলেন, ট্রাম্প যতই হুমকি দিন না কেন, তিনি তাঁর হুমকিকে ভয় পান না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মাথা নত করবেন না।

ফোর্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এর মধ্যে জ্বালানি তেল, পটাশ ও কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে কানাডার সব প্রদেশ অবশ্য একই অবস্থান নেয়নি। কুইবেকের সরকারপ্রধান ক্রিস্টিন ফ্রেচেট জানিয়েছেন, আপাতত তিনি ফোর্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে নন। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিদ্যুৎ ও খনিজ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ সরবরাহে কানাডা সবচেয়ে বড় বিদেশি উৎস। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য কানাডার বিদ্যুতের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহ বন্ধ হলে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার গাড়িশিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

কার্নির দাবি, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল, যা কানাডার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে অনেক বেশি, কিন্তু বিনিময়ে দিতে চেয়েছে খুব কম।

সব মিলিয়ে নতুন শুল্ক, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের সম্ভাবনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার দীর্ঘদিনের মিত্রতার মধ্যেই নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...