Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

নেপাল–তিব্বতে মৃত্যু বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ হাজারের বেশি!

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও তিব্বতে এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশ।

Amyal TV
২ মিনিট পড়ুন

ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দুর্গতদের সহায়তায় ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি। এই অর্থ জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যয় করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

দুর্যোগের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে। নদীর পানির প্রবল স্রোতে বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা গেছে। কোথাও আবার কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বাড়ির শুধু ওপরের অংশ দৃশ্যমান রয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসে শুধু প্রাণহানিই নয়, দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। দুর্গম ও বন্যাকবলিত এলাকায় হেলিকপ্টার এবং বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। চীন-নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গিরং সীমান্তপথ হওয়ায় দুর্যোগের প্রভাব দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পড়েছে।

নেপালের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...