Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার বনে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ, ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ!

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেছে দেশটির করোনার আদালত। করোনারের রায়ে বলা হয়েছে, দুর্গম এলাকায় পথ হারিয়ে ঠান্ডা, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

৩১ বছর বয়সী সেলিন ক্রেমার ২০২৩ সালের ১৭ জুন তাসমানিয়ার প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ‘ফিলোসফার ফলস’ এলাকায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। এরপর আর ফিরে না আসায় প্রায় ১০ দিন পর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। পরে একটি ট্রেইলহেডে তাঁর গাড়ি পাওয়া যায়।

উদ্ধারকারী দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালালেও ঘন জঙ্গল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সন্ধান মেলেনি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে তল্লাশি চালানোর সময় একটি ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ক্রেমারের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ওই দিন দুপুর ২টা ২১ মিনিট থেকে ২টা ৪২ মিনিটের মধ্যে তিনি কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন। এরপর কয়েকবার গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেন। তাঁর ফোনে সর্বশেষ ইনপুটের সময় ছিল বিকেল ৪টা ১৮ মিনিট।

অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ক্রেমারের বন্ধু ও পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে একটি নদীর কাছে তাঁর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে আরও হাড়, দাঁত, পোশাক ও তাঁর গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ ক্রেমারেরই।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন জানান, ২০২৩ সালের ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে ক্রেমারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।

করোনারের তদন্তে জানা যায়, ফিলোসফার ফলস ঘোরার পর ক্রেমার সরাসরি গাড়ি পার্কিংয়ের দিকে না গিয়ে ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথ ধরে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি মূল পথ থেকে সরে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন।

সে সময় তাসমানিয়ায় ছিল শীতকাল। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে দ্রুত অন্ধকার নেমে আসছিল এবং তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের কাছাকাছি। কিন্তু ক্রেমারের পরনে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ছিল না। বৃষ্টি বা পানি থেকে সুরক্ষার জন্যও তাঁর কাছে উপযুক্ত পোশাক ছিল না।

দেহাবশেষে একাধিক হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পড়ে গিয়ে এসব আঘাত লাগতে পারে। আবার মৃত্যুর পর নদীর স্রোতে পাথর বা ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা লেগেও হাড় ভাঙতে পারে।

তদন্তে হাইপোথার্মিয়া, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে যাওয়াকে সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ক্রেমারের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত বলেই রায় দিয়েছেন করোনার।

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর বোনের দেহাবশেষ উদ্ধারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেমারের বোন অ্যামেলি। তিনি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসা পরিবারের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

এদিকে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় কাউন্সিলকে ‘ফিলোসফার ফলস’ ট্রেইলের প্রবেশমুখে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন করোনার ম্যাডেলিন উইলসন। সেখানে পথটির অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং বিনোদনের জন্য এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না—এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...