জাহাজ কোম্পানিগুলো হামলার আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, হামলার ঝুঁকি এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রাখছে।
পণ্যবাণিজ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজগুলোর বেশির ভাগই ছিল ছোট আকারের। এর মধ্যে দুটি ছিল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি পরিবহনকারী জাহাজ। একটি ইরানের দিকের পথ দিয়ে প্রণালি থেকে বেরিয়ে যায়, অন্যটি রাতের আঁধারে প্রণালি পেরিয়ে ভারতের দিকে চলে যায়।
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ চলাচল করেছিল। এর মধ্যে একটি বিশাল ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল কাতারি অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই প্রণালি অতিক্রম করে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রণালিতে এটি ছিল সংস্থাটির নথিভুক্ত তৃতীয় হামলার ঘটনা।
এর মধ্যেই রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময় পর ইরানে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা। হামলায় সেনা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে দাবি করে এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।
রোববার দিবাগত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবিও করে ইরান। তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
