ইউসুফের পরিবারের দাবি, দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে।
নিহত ইউসুফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুনের ছেলে। তিনি স্পেনে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো ডেলিভারির সাইকেল নিতে ওই গ্যারেজে গিয়েছিলেন ইউসুফ। সেখানে থাকা একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে গ্যারেজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়া।
এ সময় ইউসুফসহ তিন কর্মী গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়েন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে ইউসুফ সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আকুতি জানান।
খবর পেয়ে মাদ্রিদ ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গ্যারেজ থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা করে। পরে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য দুই সহকর্মী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মামাতো ভাই ও বার্সেলোনা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম রাসেল।
মাত্র কয়েক মাস আগে ভাগ্য বদলের আশায় স্পেনে যাওয়া ইউসুফের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে গভীর বিষাদের আবহ।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর; অথচ কাজের অনুমতি পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে থেমে গেল ইউসুফের জীবন।
