ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় আহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু। আহত সবাইকে মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলেও জানান তিনি।
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্য প্রকাশ করেছে আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি। শিশুটি জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই সে আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিল। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরো ছিটকে এসে তার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। তার ভাষ্য, আহতদের সবাই ছিলেন সাধারণ বেসামরিক মানুষ।
ইরানের এসব অভিযোগের মধ্যেই দেশটির সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। এর জবাব হিসেবেই হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা হামলার লক্ষ্য ছিল।
সপ্তাহান্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থাও আরও গভীর হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটি অবরোধ করে রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সর্বশেষ হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, এই হামলাকে আগের ধারাবাহিক হামলা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
বাঘাই আরও বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাব ও লামার্দ শহরেও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছিল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আর লামার্দের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত হন অন্তত ২১ জন।
এদিকে কুহেস্তাক ছাড়াও দক্ষিণ ইরানের কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
