Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

মদিনায় ১১ কোটি টন দুর্লভ খনিজ-ইউরেনিয়ামের সন্ধান পেল সৌদি আরব

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

দেশটির জ্বালানি ও খনিজ খাতে এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাবাল সাঈদ নামের একটি স্থানে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে ভারী দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ উপাদান এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের খনিজ সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পারমাণবিক খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ এবং ইউরেনিয়ামের মতো কৌশলগত সম্পদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কয়েক মাস আগেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে ওই চুক্তি সই হয়।

চুক্তিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সহায়তায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর দুই দেশের মধ্যে খনিজ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই সফরের সময় সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’ এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এমপি মেটেরিয়ালস’-এর মধ্যে একটি যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায় নির্মাণ হতে যাওয়া নতুন একটি খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে সম্মত হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এর ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেদ্দা শহর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ খনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপ ও অনুসন্ধানে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।

‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাবাল সাঈদ খনিজ ক্ষেত্রে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ উপাদান এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুত থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

বিশাল এই খনিজ সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিশ্বমানের এই খনিজ সম্পদের মোট মূল্য আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি।

শুধু জাবাল সাঈদ নয়, সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা দেশটির আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। এসব অঞ্চলের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন বলে জানানো হয়েছে।

ফলে মদিনা অঞ্চলে নতুন এই বিশাল খনিজ ভান্ডারের সন্ধান সৌদি আরবের অর্থনীতি, খনিজ শিল্প এবং কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে ঘিরে সৌদি আরবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাও ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: আরব নিউজ

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...