মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের এল-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে একের পর এক খনির সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। পরদিন বুধবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে খনির ভেতরে এখনো আরও কতজন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ শ্রমিকদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে জানান, রাতভর তারা সহকর্মী শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। খনি থেকে সোনা উত্তোলনের কাজে সাধারণত যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেগুলো দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ কিংবা জীবিত কাউকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকাজে থাকা ব্যক্তিরা।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষের সামরিক কর্মকাণ্ডের অর্থের একটি বড় উৎস হিসেবে সোনা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি যুদ্ধরত পক্ষগুলো বিদেশি সহায়তাও পেয়ে থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত সুদানের আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে আরও সংকটের মধ্যে ফেলেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদান থেকে পাচার বা রপ্তানি হওয়া সোনার প্রায় পুরোটাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে যায়। তবে আরএসএফকে ব্যাপকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আল-জারার মতো পরিত্যক্ত খনি কিংবা অনানুষ্ঠানিক খনি এলাকায় স্থানীয় ও ক্ষুদ্র পরিসরে সোনা উত্তোলনের কাজ হয়ে থাকে। দেশটিতে উত্তোলিত সোনার বড় একটি অংশই এ ধরনের ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি থেকে আসে।
দুর্ঘটনার সময় আল-জারা খনির বাইরে কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলাইমান। তিনি এএফপিকে জানান, ওই এলাকার সবগুলো খনির সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ফলে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে আশপাশের অন্য সুড়ঙ্গগুলোতেও ধস নেমে আসার ঝুঁকি থাকে।
আল-আমিন সুলাইমান বলেন, এবারও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার থেকে আরও অনেক শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পাশের দারফুর অঞ্চলও আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে।
আরএসএফ একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখনো সীমিত। ফলে পশ্চিম সুদানের সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকার জন্য অনেকাংশে মানবিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
আল-জারা সোনার খনির এই দুর্ঘটনা দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকলে তাদের উদ্ধারে দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
