শুক্রবার বিকেলে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাত শহরে অবস্থিত ‘ওল্ড পুলিশ লাইনস’ কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে বোমা হামলা ও গোলাগুলি চালায়। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাস করা কোহাত শহরের এই পুলিশ কমপ্লেক্সটি জেলা পর্যায়ের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ওল্ড পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কার্যালয় রয়েছে। ফলে হামলার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন।
জ্যেষ্ঠ ওই পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত ও তাদের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে হামলার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নিয়মিতই ঘটে আসছে। সর্বশেষ কোহাতের পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হামলার পর কোহাত ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
