Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ‘ভূমিকম্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার চক্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে এসব কথা বলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে। একই সঙ্গে কোনো দেশ যেন অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংঘাতের প্রভাব অনেকটা ‘ভূমিকম্পের’ মতো। এর ‘কম্পন’ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সীমার মধ্যে আটকে থাকেনি, বরং অঞ্চলটির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, এই সংঘাতের কারণে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে এতদিনের প্রচলিত ধারণাগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ায় দেশগুলোকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয় দিয়ে। এরপর তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনার দিকে গিয়েছে। এগুলো ছিল একই প্রশ্নের ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়টির ওপর নির্ভর করা যেতে পারে?’

কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’ চলমান সংকটের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে কাতার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

তবে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে বলে স্বীকার করেন শেখ মোহাম্মদ। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা থেকে কোনো দেশই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারছে না। এর প্রভাব নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুভূত হচ্ছে।

স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি দেশকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করলেই হবে না; বরং উত্তেজনার মূল কারণগুলোও চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এদিকে, নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং চলমান সংঘাতের প্রভাব নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই বার্তা আবারও আলোচনায় আসতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির এই বক্তব্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...