শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক একটি জরিপের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদন ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে ৬১ শতাংশ ভোটার তার দায়িত্ব পালনে অনাস্থা বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোর তথ্যেও ট্রাম্পের জনসমর্থনের নিম্নমুখী চিত্র উঠে এসেছে। মারকুয়েট ল স্কুলের সেপ্টেম্বরের জাতীয় জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক চাকরি-অনুমোদন ৩৭ শতাংশ এবং অননুমোদন ৬৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। একই জরিপে দেখা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তার অনুমোদন ছিল ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে তার অনুমোদনের হার কমেছে।
অন্যদিকে, রয়টার্স/ইপসোসের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার আরও কমে ৩২ শতাংশে নেমে আসে, যা ওই জরিপে তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন অনুমোদন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষের অনুমোদন পাওয়া গেছে। একই জরিপে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থনও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে জনমতের নেতিবাচক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সাম্প্রতিক জরিপ ও বিশ্লেষণগুলোতে উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের কম অনুমোদন এবং ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিষয়েও মার্কিন জনমতে বিভাজন রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সেপ্টেম্বরের জরিপে মাত্র ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলার অনুমোদন দিয়েছেন। একই জরিপে ৮২ শতাংশ মানুষ মনে করেছেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। মারকুয়েটের সেপ্টেম্বরের জরিপে ট্রাম্পের গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে অনুমোদন ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অনুমোদন ছিল ১৯ শতাংশ। অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রেও তার অনুমোদন ৩০ শতাংশের নিচে ছিল।
ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও কিছু বিষয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন ৭৩ শতাংশে নেমে আসে, যা আগের সপ্তাহের ৮২ শতাংশের তুলনায় কম। অর্থাৎ নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
সমর্থন ধরে রাখতে ট্রাম্প বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথাও বলেছেন। এর মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে, যেটিকে তার পক্ষ থেকে ‘ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রস্তাবটি রিপাবলিকানদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে এবং এর অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের অনুমোদন নিয়ে অন্যান্য জরিপেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মারকুয়েট ল স্কুলের জরিপে সেপ্টেম্বরের অনুমোদন ৩৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে তা ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও সময়ের পার্থক্যের কারণে নির্দিষ্ট হার ভিন্ন হলেও সামগ্রিক জনমত সূচকে ট্রাম্পের জন্য চাপের চিত্র স্পষ্ট।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেসব প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ৫০ শতাংশের নিচে ছিল, তাদের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে গড়ে ৩৭টি হাউস আসন হারিয়েছে। তবে এটি একটি ঐতিহাসিক গড়; কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনে একই ফল হবে—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।
এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন জরিপে যে নিম্নমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইরান সংঘাত, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব ইস্যু ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে বলে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।
ফলে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য জনসমর্থনের এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে জরিপের ফলাফল সময়, নমুনা ও পদ্ধতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে; তাই কোনো একক জরিপকে পুরো মার্কিন ভোটারদের চূড়ান্ত মতামত হিসেবে দেখা যায় না।
