Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

১৯ বছরের রোগীকে বাঁচাতে না পেরে হাসপাতালের বাইরে একা কাঁদতে দেখা গেল চিকিৎসককে

কয়েক মিনিট আগেও ১৯ বছর বয়সী এক রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন তিনি। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় তরুণ রোগীকে।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

রোগীকে আর বাঁচাতে না পারার পর হাসপাতালের বাইরে এসে একা দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জরুরি বিভাগের সেই চিকিৎসক। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মেডিকেল সেন্টারের বাইরে ঘটে যাওয়া এই আবেগঘন মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন এক প্যারামেডিক।

ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসকটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেই হারানো রোগীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়া মনটাকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে যিনি অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করেন, সেই মানুষটির চোখেমুখে তখন ফুটে উঠেছিল একজন রোগীকে হারানোর গভীর কষ্ট।

তবে সেখানে দীর্ঘ সময় থেমে থাকার সুযোগ ছিল না তার। কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে থাকার পর নিজেকে সামলে আবার হাসপাতালের ভেতরে ফিরে যান তিনি। কারণ জরুরি বিভাগে তখনও অপেক্ষা করছিলেন আরও অনেক রোগী। তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদেরও বাঁচার জন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই একজন চিকিৎসকের।

চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং সংকটময় মুহূর্তে তাদেরই সামনে দাঁড়াতে হয়। রোগীর স্বজনদের উদ্বেগ সামলানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া—সবকিছুর মধ্যেই তাদের নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

চিকিৎসকদের শেখানো হয়, রোগীর সংকটের সময় শান্ত থাকতে হবে। কারণ সেই মুহূর্তে চিকিৎসকের সামান্য বিচলিত হওয়াও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সময়েও তারা নিজেদের আবেগ আড়াল করে রোগীর পাশে দাঁড়ান।

কিন্তু পেশাগত দায়িত্বের আড়ালেও তারা একজন মানুষ। তারাও কষ্ট পান, তারাও ব্যর্থতার ভার অনুভব করেন, তারাও কোনো রোগীকে হারালে ভেতর থেকে ভেঙে পড়েন। শুধু সেই কান্না কিংবা কষ্টের প্রকাশ সবসময় সবার সামনে আসে না।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালের বাইরে ধারণ করা এই ছবিটি যেন সেই অদৃশ্য বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। কয়েক মিনিট আগেও যে চিকিৎসক একজন তরুণের জীবন বাঁচাতে লড়ছিলেন, রোগীকে হারানোর পর তিনিই হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করছিলেন।

প্রতিটি জীবন বাঁচানো সম্ভব হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং একজন চিকিৎসকের নিরলস পরিশ্রমের পরও কখনো কখনো মৃত্যু জয়ী হয়। আর তখন রোগী হারানোর সেই যন্ত্রণার একটি অংশ নীরবে নিজের ভেতরেই বহন করতে হয় চিকিৎসকদের।

তবুও তাদের থেমে থাকার সুযোগ থাকে না। একটি রোগীকে হারানোর কষ্ট নিয়েই তাদের আবার ফিরে যেতে হয় হাসপাতালের ভেতরে, অপেক্ষমাণ অন্য রোগীদের কাছে। কারণ তাদের সামনে তখনও রয়েছে আরও অনেক জীবন, আরও অনেক মানুষের আশা এবং বাঁচার আকুতি।

এই ছবিটি তাই শুধু একজন চিকিৎসকের কান্নার ছবি নয়। এটি চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে থাকা মানবিক অনুভূতিরও একটি প্রতিচ্ছবি—যেখানে একজন মানুষ অন্যের জীবন বাঁচাতে লড়াই করেন, আর কাউকে বাঁচাতে না পারলে সেই ব্যর্থতার কষ্টটাও নীরবে নিজের ভেতরে বহন করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...