সোমবার (১২ অক্টোবর) কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী সহসভাপতি ত্রিতা পারসির বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি বাজারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে ইরান নিজেই উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
ত্রিতা পারসি জানান, জ্বালানি বাজারে হুথিদের তৎপরতার কারণে চাপ তৈরি হওয়ায় তেহরান কিছু কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। তবে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করলে তা ইরানের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করছে দেশটি। এ কারণে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী বা আরও বিস্তৃত হওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন পারসি। তাঁর মতে, ইয়েমেনের হুথিদের প্রতি ইরানের নীতিগত সমর্থন থাকলেও গোষ্ঠীটিকে সরাসরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রক্সি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং হুথিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে ইরান চাইলেই তাদের সব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে—এমন ধারণারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পারসি আরও উল্লেখ করেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই উদ্যোগের পরিধি বর্তমানে লেবাননের পাশাপাশি ইয়েমেনের পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।
তবে হুথিদের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে ইরানের প্রকৃত প্রভাব কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব অবরোধ প্রত্যাহার না করলে হুথিদের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত করানোর মতো পর্যাপ্ত প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ তেহরানের আছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন পারসি।
বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হতে পারে এবং সৌদি আরব ও হুথি—উভয় পক্ষ আলোচনায় বসতে কতটা আগ্রহী হবে। কারণ, হুথিদের ওপর ইরানের প্রভাব থাকলেও তাদের সব সিদ্ধান্ত তেহরানের নির্দেশে হয় না বলে পারসি উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা সামনে এনেছে। তবে সংঘাত প্রশমনে এ উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও আলোচনায় অগ্রগতির ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা
