চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে—এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, দেশ দুটি যদি ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দিয়েও থাকে, তবে তা অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে, চীন বা রাশিয়া তেহরানকে সহযোগিতা করছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, দেশ দুটি যদি এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিত, তাহলে মার্কিন প্রশাসন খুব দ্রুতই বিষয়টি জানতে পারত।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য গত জুলাইয়ে দেওয়া তাঁর একটি পোস্টের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের কাছে কোনো ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এর আগে গত মে মাসে ইরানের সামরিক ক্রয় নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা এবং মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কাজে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহের অভিযোগে বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। একই সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরবর্তীতে জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বর্তমানে সেই সমঝোতা প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
