গান্ধী এসব বার্তা লিখেছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে উদ্দেশ করে। ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে লেখা এসব বার্তা পরবর্তী সময়ে সংকলন করে ‘আ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়।
জানা যায়, হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক ও একাকিত্বে ভুগছিলেন। একই সময়ে কানে কম শোনার সমস্যার জন্য তিনি প্রাকৃতিক চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। বন্ধুর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে গান্ধী প্রতিদিন নিজের হাতে ছোট একটি উপদেশ বা ভাবনা লিখে তাঁকে পাঠাতেন।
স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি জানান, গান্ধী প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও হিঙ্গোরানির জন্য সময় বের করে এসব ভাবনা লিখতেন। পরে হিঙ্গোরানি সেগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অনুলিপি করেন।
৬৮৮টি বার্তায় গান্ধীর দর্শন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। সত্য, অহিংসা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা ও আত্মোপলব্ধির মতো বিষয় এসব লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালের দিকে লেখা গান্ধীর আরও নয়টি চিঠির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যার বিয়ে, পরিবারের আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে গান্ধীর মতামত উঠে এসেছে।
হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান্ধীর এসব লেখা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছিল। এবার স্যাফরনআর্ট ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ নামে মোট ৮৬টি সামগ্রীর নিলাম আয়োজন করে।
নিলামে ৬৮৮টি হাতে লেখা বার্তার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ থেকে ২৫ কোটি রুপি। শেষ পর্যন্ত ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয় সেগুলো।
নিলামে গান্ধীর আরও কিছু ঐতিহাসিক সামগ্রীও বিক্রি হয়েছে। ‘মেসেজ অন গড’ নামে তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে। বহনযোগ্য বাক্সে রাখা গান্ধীর চরকা ও সংশ্লিষ্ট দুটি চিঠি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ রুপিতে। তাঁর সই করা একটি ছবি বিক্রি হয়েছে ৭৮ লাখ রুপিতে।
তবে গান্ধীর ব্যক্তিগত চিঠি ও ঐতিহাসিক সামগ্রী নিলামে বিক্রি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ভারতের কয়েকজন ইতিহাসবিদ। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই বলেন, এসব চিঠি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী শুধু কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এগুলো ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ।
তিনি এসব ঐতিহাসিক দলিল নিলামে বিক্রি না করে জাদুঘরে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
