তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, তেলাপোকাটি দেখেও সেটিকে মারেননি তাকাইচি। তাঁর বিশ্বাস, পোকাটিও হয়তো ‘দীর্ঘ পুনর্জন্মের চক্রের’ একটি অংশ।
তাকাইচি জানান, সরকারি বাসভবনে ওঠার পর তিনি নিয়মিত খাবার টেবিলের নিচের মেঝে পরিষ্কার করতেন। খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন এবং প্লাস্টিকের পাত্রও পরিষ্কার করে রাখতেন। তাই একদিন হঠাৎ পায়ের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা ছুটে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন।
ঘটনাটি তাঁকে শৈশবের প্রিয় জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ‘ফিনিক্স’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। লেখক ওসামু তেজুকার এই মাঙ্গায় পুনর্জন্মের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। ছোটবেলায় এই ধারণা তাকাইচির মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি।
সেই বিশ্বাস থেকেই তেলাপোকাটিকে না মেরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আশা ছিল, হয়তো পোকাটি নিজে থেকেই চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তিনি সহযোগীদের জানান।
এরপর তেলাপোকা দমনে শুরু হয় মজার নামের ‘অপারেশন কমব্যাট’। সহযোগীরা তেলাপোকাটি সরিয়ে দেন এবং এরপর আর সেটিকে দেখা যায়নি।
এতে স্বস্তি পেলেও তাকাইচির মনে অন্যরকম এক অনুভূতি তৈরি হয়। তিনি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে ‘কিছুটা একাকী, অথবা হয়তো দুঃখী’ মনে করেছিলেন।
সরকারি বাসভবনে ভূত দেখার গুঞ্জন নিয়েও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাকাইচি। তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভূতের মুখোমুখি হননি। তবে ছোটবেলায় তেলাপোকা দেখলে তিনিই চিৎকার করতেন বলে মজার ছলে উল্লেখ করেছেন।
এভাবেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভিন্নধর্মী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
