Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘পুলিশ এখনো আসামিদের ধরে নাই, থানায় গেলে খালি কয় তদন্ত চলতাছে’

তিন মাস আগে নিজের ২৩তম জন্মদিনে বন্ধুদের সঙ্গে কেক কেটেছিলেন আশরাফুল আলম ওরফে রবিন। রাত ১২টা ১ মিনিটে জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

নিহত আশরাফুল ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন ও শান্তা আক্তারের একমাত্র ছেলে। গত ৮ জুন রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৮ জুন রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিনের কেক কাটেন আশরাফুল। এরপর রাত পৌনে একটার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসানের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

পথে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছোড়ে। এ সময় শাকিবুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আশরাফুলকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় তাঁর বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় আশরাফুলকে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত সোয়া তিনটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দুই দিন পর, ১০ জুন আশরাফুলের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে কলেজ রোড এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে রাজিবকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়। তবে এরপর আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নিহতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, ২০২১ সালে স্থানীয় একটি ফুটবল খেলা নিয়ে রাজিবের সঙ্গে আশরাফুল ও তাঁর বন্ধুদের বিরোধ হয়েছিল। সেই পুরোনো বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আশরাফুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তাঁদের।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর মা শান্তা আক্তার বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলেকে জন্মদিনের কেক কেটে বাড়ি ফেরার সময় হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার এত দিন পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি দ্রুত হত্যার বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, হামলার সময় আশরাফুলের সঙ্গে থাকা বন্ধু শাকিবুলেরও কোনো খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হলেও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আশরাফুলের সঙ্গে রাজিবের পুরোনো বিরোধের বিষয়টি তদন্তে এসেছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...