মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগ স্বীকার করেন তামিম। পরে আদালত তাকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেন।
তামিম পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনির স্টোক নিউইংটন চার্চ স্ট্রিটের বাসিন্দা। তিনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘ব্রেস্ট ক্যানসার নাও’-এর অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।
আদালতে জানানো হয়, ২০২৩ সালে ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ পাঠানোর জন্য ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট তামিম প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল প্যাড ব্যবহার করে একটি ই-মেইল পাঠান। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে নিজের স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার ১০০ পাউন্ড খরচ করেন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, ওই অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত দেনা পরিশোধ, কাতার ভ্রমণের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, আত্মীয়দের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও মধুচন্দ্রিমার খরচ মেটানো হয়।
অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসার পর স্যানটান্ডার ব্যাংক তামিমের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়।
ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের বিশেষায়িত দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে তামিম গুরুতর বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
তবে ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আত্মসাৎ করা পুরো অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রেস্ট ক্যানসার নাও। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ঘটনায় তাদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
