বুধবার ২ সেপ্টেম্বর নবনির্মিত বিওপি ক্যাম্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও দুর্গম পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এই বিওপি চালুর ফলে ফেনী নদীপথ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
বিজিবি সূত্র জানায়, রামগড় ৪৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন রামগড়, উত্তর ফটিকছড়ি ও মীরসরাই সীমান্তে আগে ১২টি বিওপি ক্যাম্প ছিল। রহমতপুর বিওপি চালুর মাধ্যমে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে।
এর আগে গত বছরের ৫ অক্টোবর মীরসরাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ছোট ফরিংগা বিওপি ক্যাম্প চালু করা হয়।
রামগড় ৪৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম জানান, ফটিকছড়ি সীমান্তের পানুয়া ও কয়লামুখ বিওপির মধ্যবর্তী প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা পাহাড় ও বনভূমি বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন ছিল।
রহমতপুর বিওপি স্থাপনের ফলে দুর্গম এই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আভিযানিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
নতুন বিওপি উদ্বোধনের পর বিজিবি মহাপরিচালক খাগড়াছড়ির পানছড়ি ব্যাটালিয়ন—৩ বিজিবি পরিদর্শন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরে বিজিবি মহাপরিচালক মাটিরাঙ্গার জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন—২৩ বিজিবির অধীন বগাপাড়া বিওপি এবং রাঙ্গামাটি সেক্টরের রাজনগর ব্যাটালিয়ন—৩৭ বিজিবি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি ও তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
