বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটে তল্লাশি চালান কাস্টমস কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে উড়োজাহাজের একটি আসনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি প্যাকেটের সন্ধান পাওয়া যায়।
কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো প্যাকেটটি খুলে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের সম্মিলিত ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৩০ গ্রাম। প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণের বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে উড়োজাহাজের আসনের নিচে অত্যন্ত কৌশলে এসব স্বর্ণ লুকিয়ে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে এগুলো পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলেও ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
এনবিআর জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, স্বর্ণের চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং চালানটির উৎস সম্পর্কে জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
