রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারকাজ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল-১-এর উদ্দেশে এসব কথা বলেন পলক। এ সময় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় রোববার নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
নবম সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের এজলাসে কাঠগড়ায় থাকা আসামি পলক কথা বলার অনুমতি চান। এ সময় তিনি প্রথমে নবম সাক্ষীকে জেরা করার আগে তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য সময় চান।
পলক ট্রাইব্যুনালকে জানান, তিনি নামাজ পড়বেন এবং দুপুরের খাবারও খাবেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাক্ষীকে জেরা শুরু করার আগে দুই ঘণ্টা সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
এরপর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। পলক বলেন, তাকে সেদিন হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল।
পলক জানান, মাথায় ভারী কোনো কিছু না দেওয়ার পরামর্শ তাকে চিকিৎসক দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে আনার সময় তাকে হেলমেট পরিয়ে আনা হয়েছে। গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং পেছনে হাতকড়া পরানো ছিল বলে জানান তিনি।
পলক বলেন, ট্রাইব্যুনাল একটি নিরাপদ জায়গা। এত অল্প জায়গার মধ্যে তাকে কেন হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আনা হচ্ছে, তার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।
নিজের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তোলার পর ট্রাইব্যুনালের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পলক। তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারকক্ষে ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলোতে যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিকে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
পলক বলেন, ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারগুলোতে যেন লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারিক কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পলকের বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান। তখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বক্তব্য দেন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম পলকের চাওয়া দুই ঘণ্টা সময় দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আসামি পলককে যে ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই।
পলকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রসিকিউটর বলেন, তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কিংবা হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আনা হবে কি না—এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ নিয়ে পলকের বক্তব্যের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, বিষয়টি তারা দেখবেন। প্রয়োজন হলে আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে। বিশেষ করে সফটওয়্যারটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘পাইরেটেড সফটওয়্যার যাতে ব্যবহার না করা হয়।’
এর মাধ্যমে বিচারকক্ষে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে মামলায় রোববার নবম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্য শেষে আসামি পলক তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা, নামাজ পড়া ও দুপুরের খাবারের জন্য সময় চাওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির সময় আসামির পক্ষ থেকে বিচারকক্ষে ব্যবহৃত কম্পিউটারের সফটওয়্যার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি এ সময় আলোচনায় আসে। পলকের বক্তব্যের পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আইটি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করার কথা জানানো হয়।
সবশেষে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করে দেন, বিচারকক্ষে ব্যবহৃত কম্পিউটারে কোনো ধরনের পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে না এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
