বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, সমস্যা ও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাত থেকে কলকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়।
এদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে দেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে পাঁচটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের পাশাপাশি ল্যান্ডবেজ টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে। তাই শুধু এফএসআরইউয়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ল্যান্ডবেজ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বৈঠকে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাও সহজ হবে।
তবে দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়—বৈঠকে এই বাস্তবতাও উঠে আসে। এ কারণে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্পকারখানায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাকে শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
