বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে এ আদেশ দেন।
এদিকে, এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন করা হলেও পরে তা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার সকালে তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
এর আগে শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দিপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শামসুল হক টুকু, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, ফারজানা রুপাসহ ১১ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলার শুনানি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ অনুষ্ঠিত হয়।
মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে মামলার কার্যক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য এর আগে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পলাতক কোনো আসামিই ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।
এ কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলায় অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে ওই সময়ের ঘটনাবলি এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে মামলার আসামিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এদিকে, মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একদিকে পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া আসামিদের বিষয়ে পৃথকভাবে শুনানি চলছে।
বুধবারের আদেশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের শুনানির পরবর্তী ধাপের তারিখও নির্ধারণ করা হলো। আগামী ৭ অক্টোবর এ মামলায় পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
