বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই চালানের ডিজেল সরবরাহ শুরু হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায়। টানা সরবরাহের পর ১৫ সেপ্টেম্বর চালানটির সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হয়। পার্বতীপুর রেল ডিপোর পরিচালন ব্যবস্থাপক মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৮ সালে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ২০২৩ সালের মার্চে পাইপলাইনটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
পাইপলাইনটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। সর্বশেষ ৭২তম চালানে আরও প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দেশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল বা হাই-স্পিড ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পাইপলাইনকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল।
এরপর এপ্রিল, মে ও জুলাই মাসেও ভারত থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ। ওই তিন মাসে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৮ হাজার ও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আনা হয়।
পরবর্তীতে গত আগস্ট মাসে দেশে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের কাছে আরও ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই সর্বশেষ এই চালান দেশে এসেছে।
মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পরিবহনের ফলে জ্বালানি আমদানি ও পরিবহনের প্রক্রিয়া আরও সহজ হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
