বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরেই জন্ম নেয় আশরাফুল।
আকলিমা বেগম ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এ কারণে তাকে বেশির ভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। ফলে ছোট্ট আশরাফুলকে মূলত শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারই লালন-পালন করতেন। শিশুটি নাসিমা আক্তারকে ‘বড়মা’ বলে ডাকত। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুল নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।
স্থানীয় কয়েকজন ধারণা করছেন, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমা বেগমের মধ্যে কোনো ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি কেবল স্থানীয়দের ধারণা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকলিমা বেগম ও শাহীন মিয়ার মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর তিনি একটি পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সেই সন্তানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তার সন্তান আশরাফুল নয়, আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
ঘটনার পর গুরুতর আহত আশরাফুলকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলটি সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটির মাকে নিরাপত্তার স্বার্থে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, সাড়ে ৩ বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
