বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ বলেন, মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান সপ্তাহে দুটি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস পাঁচটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় প্রতিদিনই সরাসরি মালদ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দেশটিতে ভ্রমণ আরও সহজ ও সুবিধাজনক হয়েছে।
তিনি বলেন, ভালো কোনো পর্যটন গন্তব্যে পৌঁছানোর বিষয়টি সহজ হওয়া প্রয়োজন। সে দিক থেকে বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে মালদ্বীপে ভ্রমণ বেশ সুবিধাজনক। সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা থাকায় পর্যটকেরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারছেন।
মালদ্বীপকে শুধু বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান শিউনিন রশীদ। তিনি বলেন, মালদ্বীপে বিলাসবহুল রিসোর্টের পাশাপাশি সাফারি বোট এবং স্থানীয় দ্বীপগুলোতে বিভিন্ন গেস্টহাউসও রয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে এসব গেস্টহাউসে অবস্থান করে পর্যটকেরা স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কাছাকাছি থেকে দেশটি ঘুরে দেখার সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালদ্বীপের অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আলাদাভাবে ভিসার জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই। ফলে পর্যটকেরা টিকিট বুকিং করে তুলনামূলক সহজেই মালদ্বীপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে পর্যটক আগমন বাড়ছে বলেও জানান শিউনিন রশীদ। তিনি বলেন, পর্যটক আগমনের দিক থেকে মালদ্বীপে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ১৯তম। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশি পর্যটন বাজারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে মালদ্বীপ। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে মালদ্বীপের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার বিষয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার। তিনি জানান, মেলায় অংশ নিতে দেশটির বেসরকারি ট্যুর অপারেটর জাহা ট্রাভেলসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি পর্যটকেরা ঢাকায় বসেই মালদ্বীপ ভ্রমণের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে এবং ভ্রমণ আয়োজন করতে পারবেন।
বাংলাদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের জন্য মালদ্বীপে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান শিউনিন রশীদ। তিনি বলেন, মধুচন্দ্রিমা, পারিবারিক ছুটি, অ্যাডভেঞ্চার কিংবা স্বল্প সময়ের অবকাশ—সব ধরনের ভ্রমণের জন্যই মালদ্বীপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে মালদ্বীপের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের জন্য বাংলাদেশি পর্যটকদের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পর্যটনবিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
