বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন।
এর আগে বুধবার রাতে উখিয়ার বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে আট মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা তৈয়বা বেগম তার সাত বছর বয়সী ভাগ্নি রেহেনা এবং আট মাস বয়সী ছেলে কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কুতুপালং বাজারে যান। বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে পৌঁছালে তৈয়বার সাবেক স্বামী মো. রশিদ আলম তার কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর রশিদ আলম তৈয়বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রশিদ আলমকে ক্যাম্প-২ ওয়েস্টে তৈয়বার শেডে ডেকে আনা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী তসলিমা আক্তারের কাছে শিশুটিকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
পরে তসলিমা আক্তার ও রুজিনা আক্তারকেও সেখানে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে পরবর্তী সময়ে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। পরে বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক ও অপারেশন কর্মকর্তা সুমন ভক্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে মায়মুনা আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে আট মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় শিশুটিকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও একাধিকবার বিক্রির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রশিদ আলম (৩০), তার বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮), তসলিমা আক্তার (২৫), মায়মুনা আক্তার (২৯) এবং তার স্বামী নুরুল আমিন (৩৮)।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে অপহরণের পর প্রথমে রশিদ আলম তার সাবেক স্ত্রী তৈয়বা বেগমের কাছে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে ১৫ হাজার টাকায় তসলিমা আক্তারের কাছে এবং পরে ৩০ হাজার টাকায় মায়মুনা আক্তার ও নুরুল আমিনের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
