Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও থামেনি জনরোষ। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বিক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী একজোট হয়ে মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের (৫৫) দোতলা বাড়িতে হামলা চালান। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুর ও তাণ্ডবে বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কয়েকশ মানুষের একটি মিছিল দোগাছি ইউনিয়নে অবস্থিত মোস্তফা কামালের বাড়ির দিকে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর উত্তেজিত জনতা বাড়িটির সীমানাপ্রাচীর, দরজা ও জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বাড়ির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র তছনছ করা হয়। পাশাপাশি জানালার গ্রিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

শিশু কলি হত্যার ঘটনায় এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হামলার আশঙ্কায় আগের দিন থেকেই মোস্তফার বাড়িটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্র হয়ে বাড়িতে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে পারভেজ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘গতকাল থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে আজ জুমার পর সবাই একসঙ্গে চড়াও হলে পুলিশ চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা সরে যায়। ছোট শিশুটির সঙ্গে যে পাশবিক আচরণ করা হয়েছে, তা কেউ মেনে নিতে পারছে না।’

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় অভিযুক্তের কোনো চিহ্ন রাখতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে শিশু হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডিফেন্ডার’-এর পাবনা জেলা শাখা। সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু বলেন, বিচারহীনতার শঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা থেকেই অনেক সময় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মালামাল আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল এবং তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১) শিশুটিকে ফুসলিয়ে মুদি দোকানের পেছনে থাকা একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নিজেদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহটি প্রথমে একটি বস্তার মধ্যে রাখা হয়। পরে সেটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে মরদেহটি স্থানীয় একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার মূল দুই অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের মুঠোফোন থেকে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিশু কলি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...