শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্প শুরুর পর প্রায় সাড়ে চার বছর পার হলেও এর অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ফলে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে প্রায় ৫৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হবে।
শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্পটির ভৌত কাজের অগ্রগতিও বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় বিচ্যুতি বা সমস্যা রয়েছে, সেগুলো অতিক্রম করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মোট ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি এখনও অসন্তোষজনক। তবে বাকি আটটি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটির নির্মাণকাজ দরপত্র অনুযায়ী শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’
নির্মাণকাজের কারণে বর্তমানে কিছুটা জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির কাজ তেমন এগোয়নি। ফলে এখন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কারণে সড়ক ব্যবহারকারীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে কিছুটা জনদুর্ভোগ হচ্ছে। কারণ গত চার বছর এই প্রকল্পের কাজের তেমন অগ্রগতি ছিল না।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা ছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ হতে চলেছি আমরা। ভৌত কাজ যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেখানে কীভাবে কাজের গতি আরও জোরালো করা যায়, সেই চেষ্টা করছি আমরা।’
শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের যেসব অংশের কাজ এখনও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না, সেগুলোতে গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
