প্রায় এক মাস পর শনিবার সকাল ৯টার দিকে মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মাজার পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও দানবাক্স খোলার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
মাজারের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয় গত ২২ জুন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় সেগুলো খোলা হয়। ওই দফায় গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়। সে সময় গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ওই দফায় বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণসহ অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া যায়।
এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ করা হলে তিন দফায় পাওয়া নগদ অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়। ওই দফায় গণনা শেষে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মুদ্রার পাশাপাশি সোনা ও রুপার অলংকারও পাওয়া যায়।
শনিবার চতুর্থ দফায় দানবাক্স খোলার পর মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মাজারের তহবিলে জমা হওয়া অর্থ বর্তমানে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে। দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রীর হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ও সামগ্রীর হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত বিরতিতে দানবাক্স খোলার মাধ্যমে অর্থ ও সামগ্রীর হিসাব রাখার প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।
