শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে দানের টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় নয় ঘণ্টা গণনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ কার্যক্রম শেষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯ দশমিক ২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দশমিক ২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ দশমিক ৫০ রিয়াল, ৩০ দশমিক ১০ ইউরো, বাহরাইনের শূন্য দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ।
আব্দুল কাইয়ুম আরও জানান, মাজারে দান হিসেবে পাওয়া ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগলের মধ্য থেকে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল জবাই করা হয়েছে। এছাড়া ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার কর্মীদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি একটি গরু ও একটি ছাগল দরিদ্র দুই মেয়ের বিয়ের জন্য দান করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে মাজারের দানের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার কাজ শুরু করা হয়।
গণনার সময় দানবাক্স থেকে কয়েকটি চিঠি ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দানের টাকা গণনা করেন।
মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গণনা শেষে পাওয়া টাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা হিসাবে জমা রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগের তিন দফায় মাজারের দানবাক্স থেকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবারের ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা যোগ করার পর চার দফায় মোট পাওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।
মাজারের দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ২৬ জুন ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে নির্ধারিত সময় পরপর প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
