মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কারিগরি মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় অনেক বিমান সংস্থার বহরেই এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে। এর ফলে কোনো একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হয় না। বরং দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের বিভিন্ন সুবিধা ও সক্ষমতা তুলনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে।
এয়ারবাস বেছে নেওয়ার কারিগরি কারণ তুলে ধরে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যেটি ঢাকা থেকে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যেতে সক্ষম। তার দাবি, বর্তমানে বিশ্বের অন্য কোনো উড়োজাহাজের এমন সক্ষমতা নেই। এ কারণে কারিগরি ও যৌক্তিক বিভিন্ন বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ ছিল না বলেও তিনি জানান।
জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বিশ্বের শত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহের পেছনে যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের সম্ভাব্য আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে হতে পারে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনও এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছে এবং এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। আলোচনা যতটা সম্ভব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভুল বা ত্রুটির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে শুরু করতে না হয়।
তিনি বলেন, এ কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করতে চান যে আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।
তবে কারিগরি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এসব তথ্য প্রকাশ করার অনুমতি তার নেই। পাশাপাশি তিনি এয়ারবাসের পক্ষ থেকে সরাসরি চুক্তি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, এটি ফরাসি সরকার বা যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো চুক্তি নয়। এটি এয়ারবাস কোম্পানি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে সরাসরি একটি বাণিজ্যিক চুক্তি। যথাসময়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
এ প্রসঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তবে বাংলাদেশে এয়ারবাসের জন্য একটি ‘সমান সুযোগ’ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেবেন।
ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।
