Amyal TV
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদে পাস হওয়া তিন আইনে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে

বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি আইন—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, এসব আইনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া বেশ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এনএইচআরসির তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) আরও শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এসব অধ্যাদেশের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত, গুম প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন এনএইচআরসি আইনে কমিশনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলা যাবে। তবে সেই প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না দিলে কমিশনের নিজস্ব তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

এইচআরডব্লিউর মতে, নতুন আইনে কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা সীমিত করার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গুমের তদন্তে পরিবর্তন

গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনে সেই তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেওয়া হয়েছে।

তবে কোনো বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনীকে তদন্তের বাইরে রেখে অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থা কিংবা আন্তঃসংস্থা তদন্ত দলের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

এ ছাড়া আটককেন্দ্র, এমনকি কোনো স্থানে গোপন আটককেন্দ্র থাকার সন্দেহ থাকলেও সেসব স্থান পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের যে ক্ষমতা আগের অধ্যাদেশের আওতায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল, নতুন আইনে তা আর রাখা হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

গুমের ঘটনায় ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের আইনি মানদণ্ডেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতেন বা তার জানা উচিত ছিল এবং তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নিলে দায় নির্ধারণের সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

র‍্যাবের বদলে এসআরবি

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন পাস করা হয়। এর মাধ্যমে র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নামে বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এইচআরডব্লিউর দাবি, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদসহ বাহিনীটির নথিপত্রও নতুন বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি বাহিনীটির লোগোতেও বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শুধু ‘RAB’-এর পরিবর্তে ‘SRB’ লেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত মানবাধিকার সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, স্বাধীন তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

নিরাপত্তা খাতে সংস্কারের আহ্বান

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, অতীতে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত ও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্তের জন্য পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীকে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহির আওতার বাইরে রাখার কোনো উদ্যোগ মানুষের আস্থা তৈরিতে সহায়ক হবে না।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে মানবাধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইনটি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

ফলে নতুন আইনগুলোর মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল হয়েছে—এ নিয়ে সরকারের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে সরকার নতুন আইনকে কমিশনের কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এসব আইনের কিছু বিধান আগের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সীমিত করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...