বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। এর আগে মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আড়াইহাজার এলাকা থেকে শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেন এসআরবি-১১-এর সদস্যরা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন—সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)। তাদের সবার বাড়ি রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এসআরবি জানিয়েছে, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্রাবণের সহযোগীসহ অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এসআরবি-১১।
৫০ থেকে ৬০ সদস্যের গ্যাং
এদিকে, বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন শ্রাবণ। ওই গ্যাংয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাসুদ পারভেজ বলেন, রূপগঞ্জে সক্রিয় দুটি প্রধান কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে একটি শ্রাবণের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অপর গ্যাংটি ‘নবী গ্রুপ’ নামে পরিচিত।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রাবণ নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করতেন না। একেক দিন একেক এলাকায় রাত কাটাতেন। শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেউ পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতো বলেও জানান তিনি।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক বলেন, কোনো ব্যক্তির অভিযোগের খবর পাওয়ার পর তার বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি একটি মামলার জেরে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আমেনা বেগম নামে এক নারী শ্রাবণের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল বলে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, ভয়ভীতি দেখানোর কারণে শ্রাবণের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করতে সাহস পেতেন না।
রনি হত্যা ও নাদিম অপহরণ মামলায় নাম
সম্প্রতি রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও শ্রাবণ ও তার অনুসারীদের নাম আসে। ওই ঘটনার পর শ্রাবণের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
এ ছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বরের আলোচিত ‘নাদিম অপহরণ’ মামলায় শ্রাবণকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
‘কুত্তা শ্রাবণ’ নামের কারণ
শ্রাবণের নামের সঙ্গে ‘কুত্তা’ শব্দটি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, তার বাবার নামের সঙ্গেও ওই শব্দটি যুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, শ্রাবণের বাবাও একাধিক মামলার আসামি ছিলেন এবং সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার নাম থেকেই শ্রাবণের নামের সঙ্গে ‘কুত্তা’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি
