অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে ফিরতে না পারলেও অনলাইনে বিয়ের পর স্ত্রীর আবদার পূরণে কোনো ধরনের কার্পণ্য করেননি কানাডাপ্রবাসী আশরাফুল। স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসার জন্য তিনি হেলিকপ্টার পাঠান। পরে স্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী শ্বশুরবাড়িতে এসি, সর্বশেষ মডেলের আইফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান উপহার পাঠান তিনি।
এ ছাড়া স্ত্রীকে কানাডায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে তার আইইএলটিএস কোর্সের খরচও বহন করেন আশরাফুল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্ত্রীর ভবিষ্যৎ কানাডায় গড়ে তোলার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে স্ত্রীর ভিসা না হওয়ায় আশরাফুল দেশে ফিরে আসার কথা জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্ত্রী তাকে দেশে ফিরে আসতে নিষেধ করেন। এর মধ্যেই শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৭ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সময়ে স্বামীর পাঠানো সর্বমোট প্রায় ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী তার পুরনো প্রেমিক রাসেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ওই নারীর বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
স্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, কানাডায় নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েই তাকে বিয়ে করেছিলেন আশরাফুল। বিয়ের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, কানাডায় তার বাড়ি রয়েছে এবং সেখানে নাগরিকত্বও রয়েছে। এসব তথ্য ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন তিনি।
ওই নারীর দাবি, বিয়ের আগে কানাডায় নিয়ে যাওয়া, সেখানে বাড়ি ও নাগরিকত্ব থাকার বিষয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তিনি একমত নন।
ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। টাকা, স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ওঠা পাল্টাপাল্টি দাবির প্রকৃত ঘটনা কী, তা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
