বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা—বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়জুড়ে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উৎসব চলাকালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এসব এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতেও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি জানান, রাজধানীতে প্রয়োজন অনুসারে টহল পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, দুর্গাপূজা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে উৎসবের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্য নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
