কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রাজনৈতিক ইস্যুতে একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ইটনাবাসীর উদ্দেশে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম রতন। বিবৃতিতে তিনি সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেসবুকে দেওয়া বিবৃতিতে রতন বলেন, তাঁর বাবা মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন এবং ইটনা–অষ্টগ্রামের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবা-মাকে হারানোর পর ফজলুর রহমানকে তিনি পিতৃতুল্য অভিভাবক হিসেবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে স্থান দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়; বরং গভীর বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধনের।
রতন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ফজলুর রহমানের কাছে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ছিল না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁকে পিতার মতো শ্রদ্ধা করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য ও লেখালেখির কিছু বিষয়কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে রতন বলেন, তিনি কাদা ছোড়াছুড়ি কিংবা কারও সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়াতে চান না। কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে নিজের একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান রতন। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান যতদিন ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তাঁর কাছে যাবেন না। তবে এই সিদ্ধান্তকে অসম্মান, অভিমান কিংবা সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
রতন আরও বলেন, ফজলুর রহমান যদি কখনো পিতার স্নেহে তাঁকে কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য ডাকেন, তাহলে সামর্থ্য ও বিবেক অনুযায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন।
ইটনার রাজনীতি নিয়ে অযথা বিতর্ক ও ব্যক্তিগত বিরোধ এড়িয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং উন্নয়নের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু লেখা বা অপপ্রচারের কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে না।
বিবৃতির শেষাংশে রতন তাঁর সম্পর্কে অসত্য, বিভ্রান্তিকর কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে মতভেদ থাকলেও শালীনতা, সত্যতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে তা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

