শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডী উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন মুন্নার মা মনোয়ারা খাতুন টুলু, ৫৫ এবং ছোট ভাই মৃদুল, ২৮। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয়দের মারধরে আহত মুন্নাকেও একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেশার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুন্নার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ধারালো বঁটি দিয়ে মা ও ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। পরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা না খোলায় তাঁরা ইট ছুড়ে মুন্নাকে আহত করেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আহতদের উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকেই হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি জব্দ করেছে পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃদুলের অভিযোগ, নেশার কারণে তাঁর ভাই মুন্না মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর আগে তাঁকে পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর আবারও নেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
মৃদুল আরও জানান, নেশার টাকা চেয়ে মুন্না প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করতেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, নেশার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মুন্না তাঁর মা ও ভাইকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।
তিনি বলেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মুন্নাকে মারধর করেন। বর্তমানে মনোয়ারা খাতুন ও তাঁর ছেলে মৃদুলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এ ঘটনায় মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন। মেহেদী মুন্নাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
