Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে রপ্তানি আয় বেড়েছে

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইপিজেড থেকে ২৮৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩১ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার বা ১২ শতাংশের বেশি।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাবনার পাকশীতে অবস্থিত ঈশ্বরদী ইপিজেড। প্রচলিত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এই শিল্পাঞ্চলে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, উইগ, ব্যাটারি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লাভস, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, কেমিক্যাল, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, ইয়ার্ন ও রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের সুযোগই ইপিজেডটির রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের ব্যবস্থাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈশ্বরদী ইপিজেডের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে।’

তিনি জানান, সম্প্রতি তিনটি টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব কারখানা চালু হলে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করা গেলে ইপিজেডে নতুন কারখানা স্থাপন এবং বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রচলিত রেডিমেড গার্মেন্টসের বাইরে এখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতেও ঈশ্বরদী ইপিজেড ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, দেশের আটটি ইপিজেডের মধ্যে মোট রপ্তানির ভিত্তিতে ঈশ্বরদী ইপিজেডের অবস্থান সপ্তম। দেশের প্রথম লিড প্লাটিনাম সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি ‘ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও’ও এই ইপিজেডে অবস্থিত। পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

দুই দশকে শিল্পায়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

দুই দশকের বেশি সময়ের পথচলায় ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বর্তমানে দেশের আটটি ইপিজেড এবং একটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে।

বেপজা সূত্রে জানা যায়, পাবনার পাকশীতে পদ্মা নদীর তীরে ৩০৮ দশমিক ৯৭ একর জমির ওপর ঈশ্বরদী ইপিজেড নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি ইপিজেডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর শুরু হয় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম।

ইপিজেডের মোট ৩২৪টি প্লটই ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯টি কারখানা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

ঈশ্বরদী ইপিজেডে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন, দেশি-বিদেশি যৌথ এবং সম্পূর্ণ দেশি—এই তিন ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডা ও মার্শাল আইল্যান্ড।

ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব সাবস্টেশন রয়েছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এসব অবকাঠামোগত সুবিধা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২১ হাজারের কাছাকাছি কর্মসংস্থান

ঈশ্বরদী ইপিজেডে বর্তমানে ২০ হাজার ৯২৯ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা ৬ হাজার ৩৯৫ জন এবং নারী শ্রমিক ১৪ হাজার ৫৩৪ জন। এছাড়া ইপিজেডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৮৫ জন বিদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

শুধু সরাসরি কর্মসংস্থান নয়, ঈশ্বরদী ইপিজেডকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকাতেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ইপিজেডসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন, খাবারের দোকান, আবাসন ও নানা ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবেও বড় একটি জনগোষ্ঠীর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইপিজেডের কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ে ঈশ্বরদী ও এর আশপাশের এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পাঁচ বছরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার

বেপজা সূত্র অনুযায়ী, ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৫৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১৭ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে ঈশ্বরদী ইপিজেডের রপ্তানি আয় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে। একই সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুমুখী পণ্য উৎপাদন, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনের কারণে ঈশ্বরদী ইপিজেডের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর মতো অবকাঠামোগত সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে ঈশ্বরদী ইপিজেড শুধু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নেই নয়, দেশের সামগ্রিক রপ্তানি অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...