রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৫০ হাজারে দাঁড়ায়। এরপর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন উলফ ক্রিস্টারসন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার উদ্দেশ্যে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের প্রধান দল মডারেট পার্টিকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছিল অভিবাসনবিরোধী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস বা এসডি। নির্বাচনে জয় পেলে এই দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ক্রিস্টারসন।
তবে এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের ভোটের হার কমেছে। ২০১০ সালে সুইডিশ সংসদে প্রবেশের পর এই প্রথম দলটির ভোটের হার কমার ঘটনা ঘটল। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার দলটির সমর্থন প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বক্তব্যে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডেনের জনগণ দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনার পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। দীর্ঘ চার বছর বিরোধী দলে থাকার পর এবার আবারও সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সরকার গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে লেফট পার্টি, সেন্টার পার্টি এবং গ্রিন পার্টির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। তবে করনীতি, অর্থনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব মতপার্থক্যের কারণে নতুন জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর সুইডেনে এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের নেতৃত্বে সম্ভাব্য জোটে কোন কোন দল যুক্ত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে দলগুলো কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছাবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সুইডেনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর রিক্সডাগের স্পিকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এসব আলোচনার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একজন প্রার্থীর নাম সংসদে প্রস্তাব করা হবে।
এরপর সংসদে ওই প্রার্থীর ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদের অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার ওপরই সুইডেনের পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নির্ভর করবে।
