Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ এবং প্রভাবশালী নেতার ফোনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার মতে, একজন প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি চাকরিতে প্রবেশের আগে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হন, তাহলে সমস্যাটি শুধু একটি নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো নিয়োগব্যবস্থার কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়।

Amyal TV
৩ মিনিট পড়ুন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব উদ্বেগের কথা জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করেন। পরীক্ষা দেন। লিখিত পাস করেন। ভাইভা পাস করেন। এরপরও যদি চাকরিতে ঢোকার আগে তাকে ভাবতে হয়, তার পরিবারের কেউ কোন রাজনীতি করেন, স্থানীয়ভাবে কে তার পক্ষে কথা বলবেন, কিংবা কোন নেতার কাছে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে হবে, তাহলে সমস্যাটা শুধু একটি চাকরির নয়। সমস্যাটা পুরো নিয়োগব্যবস্থার।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার বহু প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তার দাবি, এভাবে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত এক হাজার।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগের শুরুতে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের যে শর্ত জানানো হয়েছিল, সেখানে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল বাছাই করা বলা হলেও, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, ভাইভার নম্বরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলে রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং এবং স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে ওই সংসদ সদস্য বলেছেন, তারা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করে দেবেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে বিষয়টি নিয়ে আরও বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই এ দেশের তরুণেরা এক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। বিএনপিও যদি চাকরির পরীক্ষায় মেধার বদলে দলীয় পরিচয়, সুপারিশ আর নেতার ফোনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনে, তাহলে তাদের মনে রাখা উচিত। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে সেই তরুণেরাই রাজপথ ও ব্যালটে এর রাজনৈতিক জবাব দেবে।’

সরকারি নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাইয়ের পর একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে।

তিনি লেখেন, ‘জুলাইয়ের পর আমরা যদি সত্যিই একটি নতুন ব্যবস্থা গড়তে চাই, তাহলে নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার তার অন্যতম পরীক্ষা। চাকরি পাওয়ার জন্য একজন তরুণের সবচেয়ে বড় পরিচয় হোক তার মেধা ও যোগ্যতা। তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় নয়। তার এলাকার প্রভাবশালী নেতা নয়। কোনো সুপারিশের ফোনও নয়।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, একজন চাকরিপ্রার্থীকে এমন একটি নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তাকে চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

তিনি বলেন, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন—‘আমি কারও লোক নই। আমি পরীক্ষায় ভালো করেছি। চাকরিটা তাই আমার প্রাপ্য।’

তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের সুযোগ নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেটিই আবার সামনে এসেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...