Amyal TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ঢেলে সাজানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও। দীর্ঘায়ুর এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে নতুন করে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের ফলে বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই নতুন বাস্তবতায় প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ (দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রবীণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের সব প্রবীণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বার্ধক্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের একটি অনিবার্য পরিণতি। তাই প্রতিটি নাগরিকের জীবনের শেষ পর্যায় যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদের আলোকে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের আরও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবীণ নাগরিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তারা শুধু অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে।”

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের প্রবীণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রবীণ নাগরিক শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতার অভাব, পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের জীবনে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি আরও সহমর্মী, দায়িত্বশীল ও যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। প্রবীণদের শুধু ভাতা বা আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রবীণরা দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ধারক। তাদের অভিজ্ঞতা, মেধা ও সামাজিক অবদানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হতে পারে। তাই প্রবীণদের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার পাশাপাশি সমাজের মূলধারার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও দাতব্য সংগঠন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, একজন প্রবীণ নাগরিক যেন জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে অবহেলা, একাকীত্ব কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও যত্ন প্রদর্শন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক অঙ্গীকারও।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি শান্তিময় ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্য উপহার দেওয়া সবার সামাজিক দায়িত্ব। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে প্রবীণদের জন্য আরও নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...