মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আতিকুজ্জামান আসামি জীবনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে এ মামলার আরেক আসামি ফারহান শাহরিয়ার ইভানেরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চেম্বার শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বের হন চিকিৎসক আসাদুর রহমান।
কিছুদূর যাওয়ার পর চার ব্যক্তি তাঁর অটোরিকশার পথরোধ করেন। তারা দরজা খুলতে বললেও চালককে দরজা না খোলার জন্য অনুরোধ করেন আসাদুর। পরে একপর্যায়ে দরজা খুলে দেওয়া হলে তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের বাঁ চোখে ঘুষি মারেন। পরে তাঁকে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
চিকিৎসকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জীবনকে আটক করেন। তবে অন্য হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসাদুর রহমানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট চিকিৎসক আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এজাহারে একজন আসামির নাম থাকলেও তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য এক আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
এদিকে হামলার আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনের নামে চিকিৎসক আসাদুর রহমানের কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে বার্তা পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। তাঁর দাবি, চাঁদা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিন পরই তিনি হামলার শিকার হন।
