Amyal TV
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

অদৃশ্য কারণে আটকে আছে, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি!

একজন শিক্ষক বছরের পর বছর একই পদে দায়িত্ব পালন করলে তাঁর পদোন্নতি শুধু প্রশাসনিক বিষয় থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাগত স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, কর্মপ্রেরণা এবং রাষ্ট্রের কাছে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন। কিন্তু বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা।

Amyal TV
৪ মিনিট পড়ুন

কখনো শূন্য পদ, কখনো পদসংকট, আবার কখনো প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতাকে পদোন্নতির পথে বাধা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও পরিষ্কার হয়নি—যাঁরা নির্ধারিত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেছেন, তাঁদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ আসলে কী।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ১০ম গ্রেডের ১৪৫ জন বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শককে ৯ম গ্রেডে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি ও নতুন করে ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অন্যান্য স্তরের কর্মকর্তাদের দুই দফা পদোন্নতি হলেও প্রভাষকদের পদোন্নতি হয়েছে মাত্র একবার। এরই মধ্যে গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি স্মারক জারি করা হয়। একটিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা এবং অন্যটিতে কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেড, বিশেষ করে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির বিষয়ে সভা আহ্বান করা হয়।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৭ জুলাই এসব বিষয়ে সভা হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পদোন্নতির বিষয়টি অন্তত প্রশাসনিক পর্যায়ে দৃশ্যমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় আশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন কেন এই প্রক্রিয়া আটকে ছিল?

পদোন্নতিতে শূন্য পদ কতটা বাধা?

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো শূন্য পদের সীমাবদ্ধতা। কিন্তু একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, আর্থিক সংশ্লেষ ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আর্থিক সংশ্লেষ ছাড়াই ৯২২ জন সহযোগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, শূন্য পদ বা আর্থিক ব্যয়ের প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়েও প্রশাসনিকভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা সম্ভব।

তাহলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমাধান কেন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হবে না—এ প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।

অন্য ক্যাডারে পদোন্নতি, শিক্ষায় স্থবিরতা

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, একই সময়ে প্রশাসন, পুলিশ, কৃষি, করসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর দায়িত্বে যাচ্ছেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকছেন।

বিশেষ করে ৩৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এখনো পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সমসাময়িক অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে উচ্চতর গ্রেডে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ধরনের বৈষম্য শুধু ব্যক্তিগত হতাশা তৈরি করছে না, এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মপরিবেশেও। জ্যেষ্ঠতা, দায়িত্ব বণ্টন এবং পেশাগত অগ্রগতির স্বাভাবিক কাঠামোও এতে ব্যাহত হচ্ছে।

পদোন্নতি মানেই শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়

পদোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধি এক বিষয় নয়। পদোন্নতি একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব, পদমর্যাদা ও পেশাগত অবস্থানের স্বীকৃতি দেয়। আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট বেতন কাঠামো ও বিধিবিধান অনুযায়ী।

তাই কোনো পদোন্নতিতে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা না থাকলে শুধু অর্থের বিষয়কে সামনে রেখে তা বছরের পর বছর আটকে রাখা কতটা যৌক্তিক—সেই প্রশ্নও উঠছে।

একজন কর্মকর্তা নির্ধারিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা অর্জন করার পরও যদি তাঁর পদোন্নতি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে থাকে, তাহলে তাঁর কর্মপ্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি জট নিরসনে এখন প্রয়োজন সাময়িক কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ কাঠামো।

শূন্য পদ যদি প্রধান বাধা হয়, তাহলে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আর্থিক সংশ্লেষ না থাকলে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার অজুহাতে পদোন্নতি আটকে রাখারও যৌক্তিকতা কমে যায়।

একই সঙ্গে উচ্চতর গ্রেডের জন্য যাঁরা বিধি অনুযায়ী যোগ্য, তাঁদের বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।

কারণ, পদোন্নতি কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি একজন পেশাজীবীর কর্মজীবনের স্বাভাবিক স্বীকৃতি।

সরকারি কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, একাডেমিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাঁদের পেশাগত অগ্রগতি অনিশ্চিত রেখে একটি মানসম্মত ও কার্যকর শিক্ষা প্রশাসন গড়ে তোলা কঠিন।

তাই এখন প্রয়োজন আরেকটি সভার নোটিশ নয়—প্রয়োজন কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন।

যাঁরা বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্য, তাঁদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রশাসনিক বা আইনগত কারণে পদোন্নতি আটকে আছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

একজন শিক্ষককে সম্মান করার অর্থ শুধু শিক্ষক দিবসে ফুল দেওয়া নয়। তাঁর পেশাগত মর্যাদা, পদোন্নতি ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

কারণ, শিক্ষককে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া শুধু শিক্ষকদের স্বার্থ নয়—এটি একটি দক্ষ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত।

চট্টগ্রাম বিভাগে তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন পেশাজীবী দলের মুখপাত্র- নাফিজ মাহবুব

সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খাঁন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ‘গাদ্দারি’...