মেসির অবসরের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে আবেগের ঢেউ। তাঁর বিদায়ের সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
আগামী আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে আর্জেন্টিনার কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চীনে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও ছিল। তবে মেসির অবসরের পর সেই পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনা করতে হতে পারে।
মেসিকে দেশের মাটিতে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মেসির ইচ্ছার ওপর।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে। ২১ বছরের পথচলায় তিনি জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন। দেশের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।
২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেন মেসি। তবে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। ওই আসরের পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি।
অবসরের বার্তায় মেসি জানান, সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় চিন্তা-ভাবনার পর তিনি মনে করেছেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়। এর পাশাপাশি কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমা জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটিয়েছিলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ ও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড নিজের করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। তবে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি।
এক যুগের পর এক যুগ ভক্তদের মুগ্ধ করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যে অধ্যায় লিখেছেন মেসি, তাঁর অবসরের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
