শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তার নজরে আসে। পরে দ্রুত হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য।
পরিদর্শনকালে সরোয়ার আলমগীর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহিরাঙ্গন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় কমপ্লেক্সের ভেতরের কয়েকটি ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পানি আটকে থাকার চিত্র দেখা যায়। এতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় সেখানে এডিস মশাসহ বিভিন্ন ধরনের মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য হাসপাতালের ভেতরের এই পরিবেশ অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের এমন স্বাস্থ্যহীন ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং হাসপাতাল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন সরোয়ার আলমগীর। এ সময় রোগীরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামোগত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে তাদের ভোগান্তি ও নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য ধৈর্য ধরে রোগী ও স্বজনদের কথা শোনেন এবং তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে হাসপাতালের মিলনায়তনে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সংসদ সদস্য। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবলসংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং রোগীদের ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কামরুল ইসলাম, ডা. এস এম সাইদুল আলমসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও এ সময় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
